মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ন
বড় শুল্ক ফাঁকি, বিচার চাই গণমাধ্যমের খোঁজে!
অনলাইন ডেস্ক
তৈরি পোশাক খাতের বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠান বি ব্রাদার্স লিমিটেডের নাম জড়িয়ে পড়েছে বড় ধরনের শুল্ক ফাঁকির ঘটনায়। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য জহিরুল হক ভূঁইয়া মোহন। গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি পলাতক থাকলেও, তার প্রতিষ্ঠান সরকারের রপ্তানিমুখী শিল্পে দেওয়া শুল্কমুক্ত সুবিধার ফ্রি অব কস্ট (এফওসি) সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে বন্ডেড সুবিধায় শিল্পকাঁচামাল আমদানি করে সাড়ে ১৩ লাখ কেজিরও বেশি কাপড় আনে। কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ) ওয়েবসাইটে এফওসির জাল প্রত্যয়নপত্র আপলোড করে তারা সরকারি ৬৬ কোটি টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আমদানি-রপ্তানি শুল্ক ও কর আদায়ে যথেষ্ট অবহেলা দেখা যায়। এর সুযোগ নিয়ে নরসিংদীর সাবেক এমপি জহিরুল হকের বি ব্রাদার্স লিমিটেড মাত্র তিন মাসে অনুমোদনহীন জাল এফওসি প্রত্যয়নপত্র ব্যবহার করে ১৩ লাখ ৫৫ হাজার কেজি কাপড় আমদানি করে। এফওসি ছাড়া সাধারণত পণ্য খালাসের অনুমতি নেই, তবে প্রতিষ্ঠানটি অভিনব কৌশলে ওয়েবসাইটে অনুমোদনহীন জাল প্রত্যয়নপত্র আপলোড করায় শুল্ক ফাঁকি দেয়। ঢাকা দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেটের ওয়েবসাইটে এই জালিপত্র থাকলেও সংশ্লিষ্ট কোনো নথি বা আবেদন পাওয়া যায়নি।
তদন্তে জানা গেছে, এফওসি জালিয়াতিতে সিস্টেম অ্যানালিস্ট গোলাম কবিরের ভূমিকা রয়েছে। তিনি অনুমোদন ছাড়াই প্রত্যয়নপত্র ওয়েবসাইটে আপলোড করেছেন এবং এ ঘটনায় ক্ষমাও চেয়েছেন। এতে সরকারি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
বি ব্রাদার্স গার্মেন্টসের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভ্যাট-ট্যাক্স বিষয়টি তার নিয়ন্ত্রণে না থাকায় কর ফাঁকির খবর তার জানা নেই। অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ বন্ড কমিশনার লুৎফর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।
তদন্ত কমিটি জহিরুল হকের প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে সিস্টেম অ্যানালিস্টের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তারা ৬৭ কোটি টাকা আদায়েরও সুপারিশ করেছে।
এর আগেও ২০২০ সালে বি ব্রাদার্স লিমিটেড পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির সময় অনিয়ম করেছে বলে বিএসইসি তদন্তে পায়। শেয়ারমানি ডিপোজিট নির্ধারিত ব্যাংকে না রেখে বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা, আইপিওর শর্ত লঙ্ঘন, ভবন লে-আউট জমা না দেওয়া এবং বেশি মুনাফা দেখানোর অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির আইপিও বাতিল করা হয়।
বি ব্রাদার্স লিমিটেডের এমডি জহিরুল হক ভূঁইয়া মোহন ছিলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পরিচিত ব্যবসায়ী। ১৯৯৬ সালে তিনি রূপগঞ্জের বরপায় প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেন। তিনি নরসিংদী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের ডামি প্রার্থী হিসেবে দুইবার সংসদ সদস্য হন।